মানুষের যেমন দৈহিক রোগ থাকে, তেমনি আত্মিক রোগও থাকে। দৈহিক রোগের জন্য যেমন ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয় তেমনি আত্মিক রোগের জন্যও আত্মিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। দৈহিক রোগ থেকে আত্মিক রোগ বেশি ক্ষতিকর। দৈহিক রোগের কারণে সর্বোচ্চ ইহকালীন ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু আত্মিক রোগের কারণে ইহকালীন ও পরকালীন উভয় ক্ষতির আশংকা থাকে। আত্মিক রোগ দূরীকরণের লক্ষ্যে যে চেষ্টা-সাধনা করা হয় তাকে তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি বলে। সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীর ভাষায়, “অন্তরকে সকল পাপ-পঙ্কিলতা ও কলুষতা থেকে মুক্ত করে সুন্দর ও সৎ গুণাবলি দ্বারা সুসজ্জিত করার চেষ্টা করা। একইসাথে খারাপ ও মন্দ গুণাবলি থেকে বেঁচে থাকাকে তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি বলে”।
এই উম্মতের সর্বপ্রথম আত্মিক চিকিৎসক ছিলেন আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সা.। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে তাকে পাঠানোর প্রধান যেসব কারণ উল্লেখ করেছেন তন্মধ্যে একটা কারণ হিসেবে বলেছেন, “আর তিনি তাদের (হৃদয় ও আত্মা)-কে পরিশুদ্ধ করেন”। (সুরা আলে ইমরান : ১৬)
এখানে নবীজি সা.-এর ব্যাপারে বলা হয়েছে, তিনি মানুষের কলব বা আত্মা পরিশুদ্ধ করার জন্য প্রেরিত হয়েছেন।
কলব বা আত্মার পরিশুদ্ধতার ব্যাপারে আদীব হুযুর মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ সাহেব দা.বা. লেখেন, “কলবের তাযকিয়া ছাড়া মানুষ তার খাহেশাত ও পাশবিকতা থেকে মুক্ত হতে পারে না। তার দিলে আল্লাহর ভয় ও মুহব্বত পয়দা হয় না। ফলে আল্লাহর আনুগত্য করা এবং শরীয়তের আহকাম ও আদেশ-নিষেধ মেনে চলা সম্ভব হয় না। পক্ষান্তরে কলবের তাযকিয়া দ্বারা মানুষ খাহেশাত ও পাশবিকতা থেকে মুক্ত হয়ে যায়। তার দিলে আল্লাহ তায়ালার ভয় ও মুহব্বত পয়দা হয়। ফলে আল্লাহর আনুগত্য করা ও শরীয়তের ওপর চলা তার জন্য সহজ হয়ে যায়”।
হাদীস শরীফে তিনি নিজেই তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, “মাকারিমে আখলাক বা চরিত্র উৎকর্ষে পূর্ণতা সাধনের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি”। রাসূল সা.-এর পরিচর্যা ও তত্ত্বাবধানে এমন একটা জামাত গড়ে উঠেছিল যারা ছিলেন চরিত্র-মাধুর্যে শ্রেষ্ঠ। সব ভালো গুণের সমাবেশ ঘটেছিল তাদের মাঝে। সেইসাথে সকল মন্দ গুণ, ঘৃণ্য আচরণ ও নফসের কুপ্রবৃত্তি থেকে ছিলেন মুক্ত। তারা এতটাই পরিশুদ্ধি অর্জন করেছিলেন যে, স্বয়ং নবী করীম সা. তাদের ব্যাপারে বলেছেন, “যে কোনো যুগের তুলনায় আমার যুগের লোকেরাই সবচেয়ে ভালো ও শ্রেষ্ঠতম মানুষ”।
ইবনে মাসউদ রা. হৃদয়গ্রাহী ভাষায় সাহাবীদের খুব সুন্দর পরিচিতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তাদের হৃদয় ছিল পবিত্র, জ্ঞান ছিল সুগভীর। তারা ছিলেন সকল প্রকার লৌকিকতা ও ছলনা থেকে মুক্ত”।
শায়খ বা মুরশিদের সোহবত ও তারবিয়তের প্রয়োজনীয়তা
দেহের রোগব্যাধি যেমন রয়েছে তেমনি কলবেরও রোগব্যাধি রয়েছে। দেহের রোগব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভের জন্য আমরা বিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। তার দেওয়া পথ্য মেনে চলে সুস্থতা লাভ করি। তেমনিভাবে আত্মিক রোগব্যাধিরও চিকিৎসক রয়েছেন, যাদের আমরা শায়খ, পীর বা মুরশীদ বলে থাকি। তিনি মানুষের হৃদয় ও আত্মাকে চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যাধিমুক্ত করে। রিয়াযত-মোজাহাদার মাধ্যমে নফসের ইসলাহ ও সংশোধন করেন। এজন্য আমাদের সবারই কর্তব্য নিজেদের নফসের ইসলাহ ও সংশোধনের জন্য কোনো অন্তর্দর্শী শায়খের সান্নিধ্যে যাওয়া, মেহনত মোজাহাদার মাধ্যমে নিজেদের আত্মিক দোষত্রুটি দূর করা।
শায়খের হাতে বাইয়াত হওয়া ও তার সাহচর্য লাভের ব্যাপারে হাকীমুল উম্মত থানভী রহ. বলেন, “বাইয়াতের আসল প্রয়োজন মূলত শায়খের সাহচর্য লাভ ও তাঁর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য। এর মাধ্যমেই পথের বিপদাপদ ও বিচ্যুতি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব, তাতে নিজের ইলম থাকুক বা না থাকুক। বরং সাহচর্য ছাড়া ইলমও বৃথা যায়। সাহচর্য লাভ করেনি এমন আলেম অপেক্ষা সাহচর্যপ্রাপ্ত বে-ইলমের সংশোধন অনেক বেশি হয়। সাহাবায়ে কেরামে সকলেই আলেম ছিলেন এমন নয়, কিন্তু সর্বাপেক্ষা সাধারণ স্তরের এক সাহাবীর ফযিলতও সর্বোচ্চ স্তরের ফকিহ, মুহাদ্দিস, ও বড় বড় ওলী থেকেও অনেক বেশি। এই শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তি কেবলই রাসূল সা.-এর বরকতময় সাহচর্য”।
শায়খের সান্নিধ্যের উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. লেখেন, “সে ব্যক্তি বড় ভাগ্যবান, আল্লাহ তায়ালা যার ভাগ্যে আলেম, বিজ্ঞ ও সূক্ষ্মদর্শী কোনো রুহানী চিকিৎসকের সাক্ষাৎ ঘটিয়েছেন, যিনি তাকে সতর্ক ও সজাগ করেন। তার চারিত্রিক দুর্বলতা ও গোপন রোগ সম্পর্কে অবহিত করতে থাকেন। রোগ থেকে মুক্তির উপায় বলে দেন। তখন তার পথ চলা সহজতর হয়ে ওঠে। অতীত যুগে এই ধরনের আল্লাহওয়ালাদের সোহবত ও সান্নিধ্যই ছিল চিকিৎসার সবচেয়ে বড় ও কার্যকরী মাধ্যম। বড় বড় আলেম ও বিদগ্ধ ব্যক্তিও এ ধরনের মুখলিস ও আল্লাহওয়ালা ব্যক্তির অনুসন্ধানে লেগে থাকতেন। তাঁদের সান্নিধ্যে সময় দিতেন। নিজের থেকে জ্ঞান ও মর্যাদায় কম হলেও এতে তারা ভ্রুক্ষেপ করতেন না। হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর পুত্র একবার তাঁকে অভিযোগ করে জিজ্ঞাসা করছিলেন, যারা জ্ঞানে-গুণে ও মর্যাদায় তাঁর চেয়ে নিম্নমানের এবং তাঁর ছাত্র হওয়ার যোগ্য, তিনি কেন এমন সব লোকদের ওয়াজ ও নসিহতের মজলিসে বসেন? পুত্রের কথার জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রিয় বৎস, মানুষ সেখানেই গিয়ে বসে, যেখানে সে নিজের কলব ও অন্তরের ফায়দা দেখে (আমি এখানে আমার কলব ও অন্তরের ফায়দা দেখতে পাই। তাই যে যা-ই মনে করুক, এখানে বসা আমার জন্য জরুরি)”।
প্রকৃত মুরশিদের পরিচয়
দিন যত যাচ্ছে নবুওয়তের জামানার সাথে দূরত্ব ততই বাড়ছে। সেইসাথে আল্লাহওয়ালাদের সংখ্যাও কমতে থাকছে। তারপরও এটা সত্য, পৃথিবীত ফেতনা-ফাসাদের ব্যাপকতা সত্ত্বেও আল্লাহওয়ালা আহলে দিল বুজুর্গের উপস্থিতি বিদ্যমান ছিল, এখনও আছে, কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে ইনশাআল্লাহ। প্রকৃত সন্ধানকারীর জন্য তাদের সন্ধান লাভ করা খুব বেশি কঠিন না। এখন প্রশ্ন হলো কে সত্যিকার অন্তর্দর্শী শায়খ আর কে ভণ্ড তা বোঝার উপায় কী?
গত শতাব্দীর এই উম্মতের রুহানী চিকিৎসক হাকীমুল উম্মত থানভী রহ. কামেল শায়খের পরিচয় বিস্তারিত বলে দিয়েছেন। কসদুস সাবিল বা আল্লাহপ্রাপ্তির পথ বইয়ে তিনি কামেল শায়খের দশটি গুণ উল্লেখ করেছেন।
১) প্রয়োজন পরিমাণ ইলম থাকা।
২) আকীদা-বিশ্বাস, আমল-আখলাক ও স্বভাব-চরিত্র শরীয়তসম্মত হওয়া।
৩) দুনিয়ার লোভ না থাকা
৪) কোনো কামেল পীরের নিকট কিছুদিন অবস্থান করা।
৫) সমকালীন ন্যায়পন্থি আলেম ও দরবেশগণ তাকে ভালো জানা।
৬) সাধারণ লোকের তুলনায় দ্বীনদার-সমঝদাররা তার অধিক ভক্ত হওয়া।
৭) তার অধিকাংশ মুরিদ শরীয়তের অনুগামী হওয়া।
৮) মুরিদদের আন্তরিকভাবে শিক্ষা দান করা।
৯)তার নিকট কিছুদিন বসার পর দুনিয়ার ভালোবাসার স্বল্পতা ও আল্লাহর ভালোবাসা বৃদ্ধি উপলব্ধি হওয়া।
১০) তিনি নিজেও যিকির-শোগল করা। যার কাছে উল্লিখিত গুণাবলি পাওয়া যাবে, তার থেকে কারামত প্রকাশিত হোক না হোক, তার দুয়া কবুল হোক বা না হোক, এসব দেখবে না। কামেল পীর হওয়ার জন্য এসব জরুরি না।
কামেল পীর পাওয়া না গেলে করণীয়
উপরোল্লিখিত গুণাবলি কারও মধ্যে পাওয়া না গেলে কিংবা কোনো অপারগতার কারণে যদি কারও সোহবত নসিব না হয়, তাহলে এক্ষেত্রে গাফেল হওয়া যাবে না। নির্ভরযোগ্য দ্বীনী কিতাবাদির সাহায্যে আত্মসংশোধনে নিয়োজিত থাকতে হবে। নিজের নফসের দুর্বলতা ও রোগসমূহ খুঁজে বের করতে হবে, সেগুলোর সংশোধনে মনোযোগী হতে হবে, সেইসাথে নিজেকে নিজের একজন নিরপেক্ষ সমালোচক হতে হবে।
নফসের চিকিৎসার ব্যাপারে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম অনেক বইপত্র লিখেছেন।
১) ইমাম গাযালির এহইয়াউ উলুমুদ্দীন (তাহকিক ও তাখরিজসহ বের হয়েছে)
২) ইবনুল জাওযির তালবিসে ইবলিস
৩) সাইয়েদ আহমদ শহীদের সীরায়ে মুস্তাকিম
৪) থানভী রহ.-এর তারবিয়াতুস সালিক ১-৩ ও কসদুস সাবিল
৫) ডা. আবদুল হাই আরেফী কর্তৃক সংকলিত বাছায়েরে হাকীমুল উম্মত।
বই পড়ার পাশাপাশি আমাদেরকে আরও কিছু বিষয়ে নজত রাখতে হবে। প্রথমত নিজের আকিদা-বিশ্বাস সহীহ করতে হবে। এজন্য–
১) ইসমাঈল শহীদ রহ.-এর তাকবিয়াতুল ঈমান
২) ইয়াহইয়া কান্ধলভী রহ.-এর আমার ঈমান
৩) থানভী রহ.-এর ফুরুউল ঈমান
৫) আবুল হাসান আলী নদভীর ইসলামী জীবনের রূপরেখা
৬) মনযুর নুমানীর ইসলাম কী ও কেন? আর, ইসলাম একমাত্র জীবনব্যবস্থা
৭) আবু তাহের মিসবাহ সাহেবের ইসলামকে জানতে হলে এবং
৮) আব্দুল মালেক সাহেবের ঈমান সবার আগে পড়া যেতে পারে।
ইবাদত ও মুয়ামালাত তথা জরুরি পরিমাণ ইলমে দ্বীন অর্জনের নিয়মিত চেষ্টা করে যাওয়া। এক্ষেত্রে থানভী রহ.-এর
১) বেহেশতী জেওর
২) বেহেশতী গাওহর
৩) সাফাইয়ে মুয়ামালাত
৪) আদাবে মুয়াশারাত
৫) তালীমুদ্দীন (সহজে বলা ভালো ‘ইসলাহি নেসাব’ পুরোটা) ভালো করে কোনো আলেমের কাছে কিংবা নিজে নিজে পড়ে নেওয়া ও আয়ত্ব করা।
কোনো গুনাহ হয়ে গেলে তাওবা করা। সবসময় ইস্তেগফার করা। নিজের আখলাক-চরিত্র উত্তম করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকা। এক্ষেত্রে নবীজী সা. আমাদের রোলমডেল। তার চরিত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে একাধিক বই আছে। যেমন,
১) উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম সা.
২) যেমন ছিলেন তিনি ১-২
৩) মহানবী সা. ব্যক্তি ও নবী
৪) জীবন উপভোগ করুন।
নবীজী সা.-এর পরে এই উম্মতের সবচে’ ভাল মানুষ ছিলেন সাহাবায়ে কেরাম। তারের চরিত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে খুব সুন্দর ও গোছালো বই উসওয়ায়ে আসহাবে রাসূল। নামাজের প্রতি আমাদের উদাসীনতা বলার অপেক্ষা রাখে না। নিজের নামাজকে জীবন্ত নামাজ বানানোর জন্য–
১) তাকী উসমানীর জীবন্ত নামাজ
২) মনযুর নুমানীর ‘নামাজের হাকীকত’ থেকে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত ও একাগ্রচিত্তে দুয়া করতে হবে। এক্ষেত্রে কুরআনের ভালো কোনো তাফসির দৈনিক পড়া যেতে পারে। কুরআনের প্রতি মহব্বত বৃদ্ধির জন্য আতীক উল্লাহ সাহেবের আই লাভ কুরআন, কুরআন তেলাওয়াতের আদব ও অন্যান্য বিষয়ে জানতে আবুল হাসান আলী নদভীর কুরআন অধ্যয়নের মূলনীতি এবং মাসিক আল কাউসারের কুরআন সংখ্যা পড়লে ব্যাপক উপকৃত হওয়া যাবে।
দৈনন্দিন দুয়ার জন্য–
১) থানভী রহ.-এর মুনাজাতে মকবূল
২) রাহনুমা থেকে প্রকাশিত হিসনে হাসিন
৩) মাকতাবাতুল বায়ান থেকে প্রকাশিত হিসনুল মুসলিম বেশি ভালো হবে।
প্রতিদিন ঘুমানোর পূর্বে নিজেদের সারাদিন হিসাব নেবে। দিনে কতটুকু সময় কী কাজে ব্যবহার হলো। তাহলে নিজের কাছেই স্পষ্ট হয়ে যাবে নিজের দিনটা কাজে লাগল নাকি অকাজে কাটল। সেইসাথে মৃত্যু ও পরকাল নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে।
উপরোল্লিখিত করণীয়র পাশাপাশি প্রতিদিন কিছু পরিমাণ আল্লাহওয়ালাদের ঘটনাবলি, জীবনী, ইতিহাস পড়া আত্মশুদ্ধির জন্য উপকারী। ইবনুল জাওযি রহ. লেখেন, “আমি অনেক ভেবেচিন্তে দেখেছি, ফিকহ অর্জন বা হাদীস শ্রবণের মাঝে লিপ্ত থাকা কলব ও অন্তরের বিশুদ্ধতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়; বরং এগুলোর সাথে সাথে পূর্ববর্তী ওলী ও আল্লাহওয়ালা আলেমদের জীবনী ও তাদের ঘটনাবলিও অধ্যয়ন করা। শুধু হারাম ও হালালের জ্ঞানই হৃদয়ের কোমলতা ও আর্দ্রতা সৃষ্টিতে খুব বেশি কার্যকরী হয় না। আওলিয়া ও আলেমদের জীবনী ও ঘটনাবলিই হৃদয়ে কোমলতা ও আর্দ্রতা সৃষ্টি করতে পারে। কেননা হাদীস ও কুরআনের যে মূল উদ্দেশ্য, তা তাঁদের জীবনে বাস্তবায়িত ছিল এবং তা অর্জনে তারা সক্ষমও হয়েছিলেন”।
সবচে’ বড় আলেম, ওলী ছিলেন নবীজী সা.। তারপর এই উম্মতের সবচে’ বড় আলেম হলেন সাহাবায়ে কেরাম রা., তাদের পর তাবেঈগণ, তাদের পর তাবে তাবেঈগণ। সেজন্য আমরা নবীজীর জীবনী ও সাহাবা তাবেঈদের জীবনী বেশি বেশি পড়ব। এক্ষেত্রে রাহনুমা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত রাফাত পাশার লেখা
১) সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন ১-২
২) নারী সাহাবীদের ঈমানদীপ্ত জীবন
৩) তাবেঈদের ঈমানদীপ্ত জীবন
৪) মাকতাবাতুল ইসলামের আসহাবে বদরের জীবনকথা
৫) মারকাযুদ দাওয়াহ থেকে ‘যেমন ছিল তাদের দৃষ্টি’ পড়তে পারি।
নিকট অতীতের বুজুর্গদের নিয়ে লেখা আপবীতী বা (থানভী লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত) ‘আত্মজীবনী ১-২’ নির্ভরযোগ্য ও উপকারী বই।